ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ, ৭ দিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির খোঁজ মিলছে না সাত দিন ধরে। তাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে।
এ ছাড়া ফ্লোরিডা স্টেট ও ফেডারেল প্রশাসনের নিখোঁজ ব্যক্তিদের ডেটাবেজেও তাদের নাম ও ছবি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৭ বছর বয়সী লিমন ও বৃষ্টি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে প্রায় দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল সকালে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়, এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা ল্যারি ম্যাককিনন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে ১৭ এপ্রিল বিকেলে প্রথম নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। তার আগের ২৪ ঘণ্টা ধরে তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ চালিয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো অপরাধমূলক কারণের ইঙ্গিত মেলেনি। তবুও তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে তাদের ছবি সম্বলিত পোস্টারও বিতরণ করেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিমন ও বৃষ্টি স্বেচ্ছায় গা ঢাকা দিয়েছেন—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) থেকেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তার বা বহিষ্কার সংক্রান্ত তথ্য নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং ভবিষ্যতে বিয়ে করার পরিকল্পনাও ছিল। তবে পড়াশোনা শেষ করার পরই তারা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন।
লিমন জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সে পিএইচডি করছিলেন এবং সর্বশেষ তাকে ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে টেম্পা সিটির বাসায় দেখা যায়। অন্যদিকে বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন এবং তাকে একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শেষবার দেখা যায়।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হচ্ছে।
তাদের কোনো তথ্য পেলে ৮১৩-৯৭৪-২৬২৮ নম্বরে ফ্লোরিডা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ









